৩ আগস্ট ২০২৬ - ২১:৪৬
আরবাঈন হলো গাদিরের বাস্তব প্রতিফলন/হযরত যয়নাব (সা.আ.)এর আত্মত্যাগ ও প্রচেষ্টা এবং শহীদ ইমামের পবিত্র রক্ত ​​ইসলামকে বিশ্বজনীন করে তুলেছে।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব আয়াতুল্লাহ রামেযানী ইরাকের আহলুল বাইত বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত তীর্থযাত্রী ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন; বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশাল ‘আরবাঈন মাশায়া’ তীর্থযাত্রার পথের ওপরই অবস্থিত।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): নবী (সা.)-এর ওফাতের পর যে বিচ্যুতিগুলো দেখা দিয়েছিল সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে আয়াতুল্লাহ রামেযানী  বলেন: "এমন কী ঘটেছিল যে, নবীর ওফাতের মাত্র ত্রিশ বছর পরই বর্শার ফলায় 'মৌন কুরআন'-কে (লিখিত কুরআন) তুলে ধরা হলো এবং পঞ্চাশ বছর পর 'বাকময় কুরআন'—অর্থাৎ হুসাইন (আ.)-এর—মস্তক বর্শার ওপর উঁচিয়ে ধরা হলো?" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এ সময় সবকিছু ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল এবং 'জাহেলিয়াত' বা অজ্ঞতার যুগ ফিরে এসেছিল; তাই ইসলাম যাতে প্রকৃত অর্থে টিকে থাকতে পারে, সেজন্যই ইমাম হুসাইন (আ.) শাহাদাত বরণ করেছিলেন।

আহলুল বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব আরও বলেন: "কারবালার আন্দোলনের আগে মানুষের কাছে ধর্ম ছিল কেবল নান্দনিক উপলব্ধির বা এক ধরণের 'আস্বাদনের' বিষয়—যা তাদের প্রাত্যহিক জীবন, আচার-আচরণ কিংবা পারিবারিক কর্মকাণ্ডের কোনো অংশ ছিল না; কিন্তু হযরত যয়নাব (সা.আ.)-এর আত্মত্যাগমূলক প্রচেষ্টা এবং ইমামের পবিত্র রক্ত ​​ইসলামকে প্রান্তিক অবস্থান থেকে মূলধারায় নিয়ে আসে এবং একে একটি বিশ্বজনীন ধর্মে রূপান্তরিত করে।"

 বক্তব্যের অন্য একটি অংশে আয়াতুল্লাহ রামেযানী বিশ্ব ক্ষমতার কাঠামোয় ইসলামের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, অপরাধী ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বিশ্বের সর্ববৃহৎ শক্তি হলো ইসলাম।

শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি জোর দিয়ে বলেন: "আজ যদি আরবাইন আন্দোলনের ওপর আঘাত হানা হয়, তবে ধর্ম ধ্বংস হয়ে যাবে"; তাই ইমামের পুনরাবির্ভাবের (জহুর) পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই বিশাল আন্দোলনকে অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।

নিজের বক্তব্য অব্যাহত রেখে এবং "শহীদ ইমাম বিশ্বব্যাপী এক জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন"—এই বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে আয়াতুল্লাহ রামেযানী বলেন: "আজ আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এক জাগরণ প্রত্যক্ষ করছি, যেখানে মানুষ জেগে উঠেছে; কারণ প্রয়াত ইমাম—যিনি মুসলিম উম্মাহর শহীদ ইমাম—আমাদের ইতিহাসের সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।"

নিজের বক্তব্যের শেষ অংশে, আধ্যাত্মিকতার প্রভাবের শক্তি এবং বিশ্বের একেশ্বরবাদের দিকে ফিরে আসার বিষয়টি তুলে ধরতে আয়াতুল্লাহ রামেযানী জর্জিয়া সফরের একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন; পাশাপাশি তিনি কয়েক দশকের নাস্তিক্যবাদী শাসনের পর সেখানে যে গভীর পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তার ওপর আলোকপাত করেন।

জর্জিয়ান অর্থোডক্স আর্চবিশপের সাথে তাঁর সাক্ষাতের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন: "সেই সাক্ষাতের সময় উচ্চপদস্থ ওই খ্রিস্টান ধর্মগুরু আমাকে বলেছিলেন: 'আপনি এখানকার সেই সত্তর বছরের ঈশ্বরহীন শাসনের সাক্ষী নন—এমন এক সময় যখন এ ভূখণ্ডের মসজিদ ও গির্জাগুলোকে গুদামে পরিণত করা হয়েছিল।'"

আলোচনা এগিয়ে নিয়ে এবং সত্যের পক্ষের অনুকূলে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে আয়াতুল্লাহ রামেযানী উল্লেখ করেন যে, সেই বিশপ—যাঁর কথায় আশা ও কিছুটা বিষাদের মিশ্র সুর ছিল—লক্ষ্য করেছেন যে, একসময়ে যেসব মসজিদকে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো, আজ সেগুলোর প্রাণসঞ্চার ঘটেছে; ফলে সত্য ও একত্ববাদের আহ্বান বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

আহলুল বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে আরও বিশাল এক রূপান্তরের সূচনা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন: "আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা শীঘ্রই বিশ্বজুড়ে প্রতীক্ষিত ইমামের (আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত পুনরাবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) সেই কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হতে দেখব, যা ঘোষণা করবে—'আমিই সেই প্রতীক্ষিত ইমাম ও প্রতিশোধ গ্রহণকারী;

আমি এসেছি হুসাইন ইবনে আলীর (আ.)-এর অন্যায়ভাবে ঝরানো রক্তের প্রতিশোধ নিতে'—এমন এক প্রতিশোধ, যার জন্য ইতিহাসের সকল সত্য-সন্ধানী দীর্ঘকাল ধরে অপেক্ষা করে আসছেন।"

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha